//

বিয়ানীবাজার মধ্যরাতে প্রতিপক্ষের বসতঘরে হামলা, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৬ বর্হিরাগত যুবক আটক

21 mins read

বিয়ানীবাজার পূর্ব বিরোধের জেরে ভাড়াটিয়াদের দিয়ে প্রতিপক্ষের ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাঠের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলা মাথিউরা ইউনিয়নের বেজগ্রাম এলাকার আমির উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। মধ্যরাতের এ ঘটনায় কয়েকশ স্থানীয় মানুষ জড়ো হয়ে হামলার শিকার ঐ পরিবারকে রক্ষা করেন। রহস্যজনক কারনে ঘটনার ঘন্টাখানেক পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের ঘর থেকে ৬জন বহিরাগত যুবককে আটক করে পুলিশ। যদিও তাদের দাবী আটককৃতরা এই বাড়ির আত্মীয়। এ ঘটনায় আমির উদ্দিনের ছেলে আকতার হোসেন বাদী হয়ে ৮জনকে আসামী করে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

আটককৃতরা হলেন, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে আক্তার হোসেন(৩০) ও রাসেল আহমদ(২০), চেরাগ আলীর ছেলে ফাহিম আহমদ(২২), পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের কুদরত আলীর ছেলে আল আমিন(২২), চরিয়া কবিরা গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন(৩০)। সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা সুনামপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার পুত্র এমরান ফেরদৌস(৩০)।

গ্রামবাসী জানান, প্রতিবেশি সাথে ইসলাম উদ্দিনের দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ও বিকালে ইসলাম উদ্দিনের দুই আত্মীয় আমির উদ্দিনের উঠান দিয়ে যাওয়ার সময় বাগবিতণ্ডা ঘটে। এ নিয়ে রাত সাড়ে ৮টা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এই জেরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসলাম উদ্দিনের ছেলেরা তাদের আত্মীয়দের সাথে নিয়ে আমির উদ্দিনের ঘরে হামলা চালায়। এ সময় আমির উদ্দিনের পরিবারের সদস্য ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে গ্রামের মসজিদের মাইকে ডাকাতের হামলার কথা প্রচার করা হয়। মুহূর্তে বেজগ্রামসহ আশপাশ এলাকার মানুষ ছুটে আসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে ইসলাম উদ্দিন আত্মীয়দের নিয়ে নিজ ঘরে অবস্থান নেন।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ আমির উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা হামলা ও লুটপাঠের অভিযোগ করে বলেন, ইসলাম উদ্দিনের পরিবারের লোকজনের সাথে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ছিলো। ঘটনা দিন সন্ধ্যা থেকে ইসলাম উদ্দিনের ঘরে বিভিন্ন অপরিচিত লোকজন জড়ো হতে থাকেন এবং তারা আমাদের পরিবারের লোকজনের গতিবিধি লক্ষ্য করেন। বিষয়টি স্বাভাবিক ভেবে রাতে খাওয়া ধাওয়া শেষ করে ঘুমান প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাং কয়েকজন যুবক দা, রাটি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিণের বেড়া ভেঙ্গে ঘরে ডুকে পড়ে। এসময় পরিবারে মহিলা সদস্যসহ অন্যদের উপর হামলা ও ঘরের আসবাপত্র ভাংচুর ও সেখানে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ থাকা লুট করার চেষ্টা করে। এসময় আমাদের চিৎকার শুনে আশাপাশের লোকজন এসে আমাদের রক্ষা করা চেস্টা করলেও তাদের উপরও হামলা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশে জানানোর পাশাপাশি মসজিদের মাইকে প্রচার করলে আশপাশ গ্রামের মানুষ জড়ো হন। তখন তারা পালিয়ে গিয়ে আমার প্রতিপক্ষ ইসলাম উদ্দিনের ঘরে ডুকে। এসময় স্থানীয়রা ইসলাম উদ্দিনের ঘর অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ এসে সেখানে থাকা ৬জন যুবকে আটক করে।

এদিকে, তার বক্তব্যের সাথে দায়েরকৃত মামলার এজাহারের মিল না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আকতার হোসেন বলেন, সকালে থানায় আসার পরে এসআই রহিম নামে এক অফিসার আমাকে পাশে রেখে এসব লেখিয়ে দিয়েছেন। আমি অশিক্ষত মানুষ এত কিছু বুজি নি।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, বাদীর টাইপকৃত এজাহার প্রাপ্ত হয়ে মামলা রেকর্ড করেছি। বিষয়টি ডাকাতি হামলা বলে প্রচার হলেও জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আটকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version