////

ভালোবাসার বিচ্ছেদ মানতে নারাজ প্রেমিক যুগল ইউপি কার্যালয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

15 mins read

ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়ে অজানার পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই তরুণ-তরুণী। স্বপ্ন ছিল একসঙ্গে নতুন জীবন গড়ার। কিন্তু সেই ভালোবাসার পথ আটকে দেয় পরিবার ও আইনের জটিলতা। শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদে বসা এক আপস বৈঠকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত জানানো হলে সবার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রেমিক-প্রেমিকা। একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আলাদা না হওয়ার আকুতি জানান তারা। সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও তোলপাড়। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে।

প্রেমিক কবির হোসেন (১৯) উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে। প্রেমিকা একই উপজেলার রৌমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল প্রেমের সম্পর্কের জেরে কবির হোসেন তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাননি। পরে তরুণীর মা আজিরন বেগম রোববার (৩ মে) রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক বসে। সেখানে তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই তাতে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাউকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত কয়েকজন সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ছেলে-মেয়ে প্রেম করে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে পরিষদে বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়।”

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রামে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। কেউ এটিকে ‘ভালোবাসার আর্তনাদ’ বলছেন, আবার কেউ বলছেন—আইন ও সামাজিক বাস্তবতার নির্মম সংঘর্ষের এক জীবন্ত দৃশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version