////

কুড়িগ্রাম পৌরসভায় দুই কর্মচারীকে পেটালেন সিইও ফজলে রাব্বী

21 mins read

কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ফজলে রাব্বীর বিরুদ্ধে দুই কর্মচারীকে মারধর ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে গেছেন পৌরসভার কর্মচারীরা। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে পৌর কর্মচারী এসোসিয়েশন। এতে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দুই কর্মচারী। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক রশিদকে বিল-ভাউচার ও নথিপত্র নিয়ে নিজের কার্যালয়ে তলব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী। নথি দেখার পর তাকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করা হয়। এর কারণ জানতে চাইলে ফজলে রাব্বী তার শার্টের কলার ধরে মেঝেতে ফেলে দেন এবং ফাইল ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন রাজ্জাক। পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা শাখার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আনারুল ইসলাম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য সকালের নাস্তা নিয়ে গেলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং চড়-থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ। ভয়ে আনারুল সেখান থেকে চলে যান। ঘটনার পর দুপুর ১২টার দিকে দুই কর্মচারী পৌর কর্মচারী সংসদের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি জানান। পরে জরুরি সভা করে কর্মচারীরা ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌরসভায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক রশিদ বলেন, “স্যার কোনো ফাইল সই করেন না। আজকে আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। ঠুনকো অজুহাতে আমাদের পিটিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা কখনোই অধীনস্থ কর্মচারীর গায়ে হাত দিতে পারেন না। আমরা তার সঠিক বিচার ও অপসারণ চাই।”

কুড়িগ্রাম জেলা পৌর কর্মচারী এসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান বুলু বলেন, “চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের দুই কর্মচারীকে পিটিয়েছেন। এর আগেও একাধিক কর্মচারীর গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা আমরা সহ্য করেছি। কিন্তু আজকের ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। অবিলম্বে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।”

এদিকে কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা, অন্যদিকে নাগরিক সেবা স্থবির হয়ে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

অভিযোগের বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। আজকে তিনি যা করেছেন, তা চাকরিবিধির বহির্ভূত। তাকে অপসারণের ব্যাপারে আমি চিঠি লিখেছি। রবিবারের মধ্যে তাকে অপসারণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি এর আগে কর্মস্থলেও গুরুতর অপরাধ করেছিলেন। যে কারণে তাকে কুড়িগ্রামে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল। এমন কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রামে বহাল রাখার সুযোগ নেই।” কর্মচারী এসোসিয়েশনের নেতারা জানান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পৌর কর্মচারী এসোসিয়েশনের সহসভাপতি আলী রেজা হিরন, যুগ্ম সম্পাদক নুরন্নবী আহমেদ রানা, উচ্চমান সহকারী আক্তারুজ্জামান আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিন রবীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version