নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
জাফলংয়ে ৫০ কোটি টাকার বালু লুট

জাফলংয়ে ৫০ কোটি টাকার বালু লুট

সিলেটে বেপরোয়া বালু সিন্ডিকেট। ইজারা বহির্ভূত জায়গা হতে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার। প্রশাসনের পক্ষ হতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এতে করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু সিন্ডিকেট। জাফলং কান্দুবস্তি, নয়াবস্তি, গোয়াইনঘাটের হাদারপাড় ও কোম্পানীগঞ্জের ঢালারপাড় এলাকা হতে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা বালু লুট করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি-বালু সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। এ বালু উত্তোলন নিয়ে খুনোখুনি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ প্রশাসন নিরব।

আর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও সিন্ডিকেটের দাপটে অসহায়। সিলেট জেলায় জাফলংয়ের গোয়াইন ১১৭ ও জৈন্তাপুরের সারি-১ ও সারি-২ ও বড়গাং নদীর বালু মহাল লিজ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই লিজকৃত অংশের বাইরে বিস্তীর্ণ এলাকায় বালু লুট করে লোকালয় বিলীন করে দেয়া হচ্ছে। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান নয়াবস্তি ও কান্দুবস্তি এলাকা। পরিবেশ সংকটাপন্ন বা ইসিএ এলাকা হিসেবে ওই এলাকা বিবেচিত। হাইকোর্টের নির্দেশে রয়েছে; ওই এলাকায় পাথর বালু উত্তোলন করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জাফলং এলাকায় কোনো বালু কিংবা পাথর কোয়ারি লিজে দেয়া হচ্ছে না।

কিন্তু গত ৪ মাস ধরে কান্দুবস্তি ও নয়াবস্তি এলাকা হতে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬শ’ কার্গো নৌকা গিয়ে বালু তুলে আনছে। আর বালু উত্তোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে লিস্টার মেশিন।

কান্দুবস্তি ও নয়াবস্তির এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন- স্থানীয় ইমরান হোসেন সুমন ও বিশ্বনাথের ফয়জুল মিলে বালু লুট করছে। তার ব্রিজের নিচ এলাকায় বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে সুভাষ দাস ও মুজিবুর রহমান। তারা এলাকার সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের নামে ওই এলাকায় বালু লুট করছে। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ওই দুই এলাকার বাসিন্দারা।

জাফলংয়ে বালু লুটপাটের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাফলং রাধানগর ব্রিজ। ইতিমধ্যে প্রশাসনের অভিযানে বালু নৌকা আটকের পর ব্রিজের নিজ অংশে পিলারের কাছে বালু ফেলে দেয়া হয়েছে।
এদিকে- জাফলংয়ে বালু লুটের ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ইমরান হোসেন প্রায় ১৫দিন আগে র‌্যাব নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। অভিযান কালে তিনটি নৌকাকে জরিমানা করে তিনি চলে আসেন।

তবে- জাফলংয়ের ওই বালু সিন্ডিকেটকে শক্তিশালী সিন্ডিকেট বলেও জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক।

স্থানীয় জাফলং বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- পরিবেশের অভিযানের পর পুনরায় একই ভাবে বালু লুট করা হচ্ছে। এসব এলাকায় উত্তোলিত প্রতি ফুট বালু এক টাকা প্রশাসনের কাছে যায় বলে জানিয়েছেন তারা। এ কারণে অভিযান চালালেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। জাফলং থেকে উত্তোলিত বালুতে ব্যবহার করা হচ্ছে সারি-৩ বালু মহালের রশিদ।

এদিকে- জাফলং বালু উত্তোলনের ফলে লোকসানের মুখে পড়েছেন গোয়াইনঘাট ১১৭ এর ইজারাদার। তাদের লিজকৃত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন বালুবাহী কার্গো নৌকার যাতায়াত করলেও তারা বৈধ রয়েলিটি আদায় করতে পারছেন না। এ নিয়ে গোয়াইন ১১৭’র ইজারাদারদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গোয়াইনঘাটে কেবল একটি বালু মহাল ইজারায় থাকলেও বিছনাকান্দি এলাকায়ও অবাধে লুট করা হচ্ছে বালু। স্থানীয় হাদারপাড়া এলাকায় বালু সিন্ডিকেটের অবস্থান রয়েছে। উজান থেকে বালুবাহী নৌকা নামলেই তারা রয়েলিটি আদায় করছে।

হাদারপাড়ার এলাকার স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন- ওই এলাকায় প্রতিদিন শ’শ বালুবাহী কার্গো যাতায়াত করে। এসব নৌকা থেকে কয়েক লাখ টাকার চাদা আদায় করছে। ওই চক্রকে শেল্টার দিচ্ছে জাফলংয়ের বালুখেকো চক্রের সদস্যরা।

সিলেটের সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রভাষ কুমার সিনহা জানিয়েছেন- যারাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অভিযানের কারণে বালু উত্তোলন এখন বন্ধ রয়েছে।

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Log In

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
English version