নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
বালুপাথরের দুই লটেরা জামাই সুমন আলিম উদ্দিন সামনা সামনি

বালুপাথরের দুই লটেরা জামাই সুমন আলিম উদ্দিন সামনা সামনি

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এক জনপদ গোয়াইনঘাটের জাফলং। পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত। পর্যটনকে ছাপিয়ে এখানে বালু ও পাথর লুটই বড় ব্যবসা। এক সময় জাফলং নিয়ন্ত্রণ করতেন ছাতকের বহুল আলোচিত আলাউদ্দিন। পরবর্তীতে জাফলংকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ জোন ঘোষণা করায় আলা উদ্দিন পিছু হটেন। পরে জাফলংয়ের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে আলীম উদ্দিনের হাতে। কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে ওই সময় আলীম উদ্দিনের সঙ্গী ছিল ইমরান হোসেন সুমন ওরফে জামাই সুমন।
দু’জনের নিয়ন্ত্রণে জাফলংয়ে লুটপাট করা হয়। চার বছর আগে একের পর এক ঘটনায় মামলার পর মামলায় বিপর্যস্ত হন আলীম উদ্দিন। ব্যাকফুটে হতে থাকেন তিনি। কারাগার, আদালতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। ফলে ধীরে ধীরে জাফলংয়ের ‘নিয়ন্ত্রক’ হয়ে উঠেন ইমরান হোসেন ওরফে জামাই সুমন। সিলেটে এরই মধ্যে আলোচনায় আসে জাফলং।
এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন ইমরান হোসেন সুমন। আর অভিযোগকারী এক সময়ের নিয়ন্ত্রক আলীম উদ্দিন।
সিলেটের জাফলংয়ের ইসিএ জোন এলাকা পিয়াইন নদী থেকে প্রতিদিন ২০-২৫ লাখ বালু লুট করা হচ্ছে। এই লুটে এবার আলীম উদ্দিন পুরোপুরি মাইনাস। নিয়ন্ত্রক হিসেবে সুমন তার সহযোগী বিশ্বনাথী ফয়জুলকে নিয়ে গত ৩ মাস ধরে জাফলংয়ে লুটপাট চালাচ্ছেন।
রাজনৈতিক শেল্টার রয়েছে তাদের ওপর। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে- গত তিন মাসে জাফলংয়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বালু লুটপাট করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশাসন এখানে নির্বিকার। এলাকার সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের নাম ভাঙিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মন্ত্রী এলাকায় সফর করলেও বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য কমেনি। সুমন হচ্ছে জাফলংয়ে প্রভাবশালী চেয়ারম্যান পরিবারের জামাই। মন্ত্রীর সঙ্গে চেয়ারম্যান পরিবারের সম্পর্ক ভালো হওয়ার কারণে সুমনের প্রতিরোধের মুখে এলাকার বেশির ভাগ মানুষ নিজেদের বাড়ির পাশের বালু উত্তোলনে অংশ নিতে পারছেন না। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। এই অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন আলীম উদ্দিন। তার বাড়ি পিয়াইনের তীরবর্তী নয়াবস্তি গ্রামে। আর সুমন বসবাস করেন বালুর মাঠ এলাকায়।
এ নিয়ে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে মৃদু উত্তেজনা বইছে। সশস্ত্র মহড়াও দেয়া হচ্ছে জাফলংয়ে। এ নিয়ে এলাকার মানুষ ভীত। স্থানীয় ইউপি মেম্বারও বালুখেকোদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। জাফলং বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জাফলং নিয়ে মূল কর্তৃত্বের কারণে এখন ভীতিময় পরিবেশ বিরাজ করছে। মোটরসাইকেল নিয়ে সশস্ত্র লোকজন মহড়া দিচ্ছে। এরা বর্তমানে লুটপাটকারীদের ভাড়াটিয়া হিসেবেই মহড়া দিচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিশ্বনাথের ডাকাতির গাঁওয়ের ফয়জুল এখন সব কিছু দেখভাল করছে। তারা জানিয়েছেন, সুমন ও আলীম উদ্দিন এক সময় একে অপরের ব্যবসায়ীক পার্টনার ছিল। পরবর্তীতে আলীম উদ্দিন একাধিকবার কারাগারে যাওয়ার কারণে সুমন সবকিছু একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন। এখন আলীম উদ্দিনকে ব্যবসায় ভাগ দিতে চাচ্ছেন না। আর আলীম উদ্দিন তার আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এ নিয়ে গতকাল আলীম উদ্দিন আদালতে চেক ডিজওনার মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তারা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জানান, জাফলংয়ে চেয়ারম্যান পরিবারের কর্তৃত্বের কারণে তারা একাধিকবার বৈঠক করেও ওই দুইজনের বিরোধের সমাপ্তি ঘটাতে পারছেন না। জাফলংয়ে কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি রক্তারক্তি পর্যায়ে পৌঁছার সম্ভাবনা থেকে তারা বৈঠক করেছেন। কিন্তু বৈঠকে উভয় পক্ষই কঠোর অবস্থানে থাকায় মীমাংসা হচ্ছে না। তবে জাফলংয়ে বালু লুটপাটের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন ইমরান হোসেন সুমন। তিনি পূর্বে ব্যবসায় থাকলেও এখন আর নেই বলে জানান। আর আলীম উদ্দিন জানিয়েছেন, জাফলংয়ে বালু লুটপাটের সিন্ডিকেট প্রধান সুমনের নাম সবাই জানেন। ইসিএ জোন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে সে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন করেছেন। প্রয়োজনে এলাকার মানুষ আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দফায় দফায় অভিযান চালালেও জাফলংয়ের পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় বালু লুটপাট বন্ধ হয়নি। বরং জাফলং চা বাগান, কান্দুবস্তি, নয়াবস্তি, শত কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে ‘যন্ত্রদানব’ বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে প্রশাসন।
উত্তেজনা : জাফলংয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গতকাল উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় নয়াবস্তি, কান্দুবস্তি গ্রামের বাসিন্দারা বালু উত্তোলনে বাধা দেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর থেকে জাফলংয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে সুমনের লোকজন জাফলং বাজার এলাকায় হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছে।
গোয়াইনঘাট থানার এসআই লিটন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনের পক্ষে এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে- স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় ক্যাডাররা জাফলংয়ে মহড়া দিচ্ছে। এ কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে৷

ইমরান হোসেন উরফে জামাই সুমনের শেল্টারদাতা কারা ? আসছে পরবর্তী পর্বে ৷

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Log In

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
English version