////

রাস্তার ধারে জন্ম নেওয়া শিশুর পাশে উপজেলা প্রশাসন

10 mins read

জন্মের মুহূর্ত থেকেই অনিশ্চয়তা—না আছে মায়ের স্থায়ী ঠিকানা, না আছে নিরাপদ আশ্রয়—নেই পিতৃ পরিচয়ও। মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া ছেলে শিশুটি জীবনের শুরুতেই অন্ধকারের মুখোমুখি।

অন্ধকারের মুখোমুখি এই শিশুর পাশে মানবিকতার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের রাস্তার পাশে অসহায় দিনযাপন করা এক ভবঘুরে নারী জন্ম দেন এই ছেলে শিশু। জন্মের পর থেকেই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে। এরপর স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

খবর পেয়ে দেরি না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইউএনও। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন। এ সময় মানবিকতার টানে এগিয়ে আসে কয়েকটি নিঃসন্তান দম্পতি, তারা শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করে।

এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে একটি উপযুক্ত দম্পতিকে শিশুটির অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া ও অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে নবজাতকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় অত্যন্ত আবেগঘন একটি পরিবেশ তৈরি হয়। ইউএনও শামীমা আফরোজ নিজে শিশুটিকে স্নেহভরে কোলে তুলে দেন নতুন অভিভাবকের কাছে—যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়।

এ বিষয়ে ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, সে একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বড় হয়ে উঠুক।’

এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল খায়ের, দত্তক গ্রহণকারী দম্পতি ও তাদের পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version