////

সংবাদ সম্মেলনে আ.লীগ নেতার দাবি, কখনো আ.লীগ করিনি

23 mins read

গত পাঁচ বছর আগে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংঘটিত একটি হত্যা মামলা ‘রাজনৈতিক’ দেখিয়ে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে ফরিদপুর জেলা বিএনপি আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী। ওই মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) ওই হত্যা মামলার বাদী নিহত মাসুদ রানার মা হালিমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, এ হত্যা মামলাকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন বিএনপি নেতা।

বিষয়টি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর আলোচিত হয়ে উঠে। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ওই হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক। এ সময় তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে ইমদাদুল হক দাবি করেন, তিনি কখনও আওয়ামী লীগ করেননি। তিনি বিএনপি করে আসছেন এবং শহীদ জিয়ার হাতে গঠিত গ্রাম সরকারের গজারিয়া গ্রামের পর পর দুই বার সরকার প্রধান ছিলেন।

ইমদাদুল হক তার লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ২০২১ সালে ভাঙ্গা পৌরসভার গজারিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের নিজ দলীয় কোন্দলে নিহত হন মাসুদ রানা। তবে তাঁর গ্রুপের হাতে নিহত হয়নি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্শান্বিত হয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সনের প্রত্যক্ষ প্ররোচারণায় ২০২১ সালে মাসুদ হত্যা মামলায় আমাকেসহ আমার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের জড়িয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। যার সাথে আমি আমার পরিবার ও সমর্থক কেউই জড়িত নয়।

এছাড়া নিহত মাসুদ রানার মা হালিমা বেগমকে ও ভাই আসাদুজ্জামানকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখ করেন। লিখিত বক্তব্যে হালিমা বেগমকে ভাঙ্গা পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের ২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও ভাই আসাদুজ্জামানকে পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি নিজের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছে বলেও তুলে ধরেছেন। এসব তুলে ধরে মাসুদ রানা হত্যা মামলা রাজনৈতিক মামলার সুপারিশের বিষয়ে বলেন, আমি ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কাছে আবেদন করেছিলাম। পরে তাঁরা জেলা কমিটিতে পাঠিয়েছেন।

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি হয়। ওই কমিটিতে সহ-সভাপতি ছিলেন ইমদাদুল হক। ২০২১ সালে ওই হত্যাকান্ডের পর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় তাতে ইমদাদুলকে “পৌর আওয়ামী লগের সহসভাপতি হিসেবে সনাক্ত করে” সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে স্থানীয় অধিপত্যের কারনে ইমদাদুলের ছেলে রিজু মিয়া জখম হলে ইমদাদুলের পক্ষে ১১ আগস্ট ফরিদপুর প্রেসক্লাবে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। তাতে ইমদাদুলকে “পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি” উল্লেখ করে বক্তব্য দেন ভাঙ্গা উপজেরা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান। ওই সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ঝর্ণা হাসান ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী মাসদ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের ওই কমিটিতে ছিলেন না দাবি করে আজকের সংবাদ সম্মেলনে ভাঙ্গা পৌর অওয়ামী লীগের একটি কমিটির ছায়া কপি বিতরণ করা হয়। তাতে দুই নম্বর সহ-সভাপতির ঘরটি ফ্লুইড মেরে ফটোকপি করে ফাঁকা দেখানো হয়। এ বিষয়েও সদুত্তোর দিতে পারেননি। এছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইমদাদুলকে বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলামের পক্ষে গণসংযোগ করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে মজিবর রহমান নিক্সনের সাথে থেকে গণসংযোগ করতে দেখা যায়। সংবাদ সম্মেলনে এসব ছবি সাংবাদিকরা ইমদাদুল হককে দেখালে তিনি দাবি করিন, “ওই ছবি আমার না, অন্য কেউ হবেন”। এছাড়া এআই দিয়ে তৈরি বলেও দাবি করেন। এ সংবাদ সম্মেলনে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর কবিরাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল মুন্সী, ও প্রচার সম্পাদক মির্জা ইমরান উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version