
টানা বৃষ্টির কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চলে কৃষিশ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুই হাজার টাকা দৈনিক মজুরিতেও শ্রমিক মিলছে না। অন্যদিকে ধানমাড়াই যন্ত্রে (হারভেস্টার) ধান কাটাতে গুনতে হচ্ছে চার গুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া। সব মিলিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৫৮৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, আগে যেখানে এক মণ বা তারও কম ধানে শ্রমিক পাওয়া যেত, সেখানে এখন দুই মণ ধানেও শ্রমিক মিলছে না। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ কাঁচা ধানের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা আর একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ১,৩০০ টাকা, যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে গড়ে প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ প্রতি বিঘায় গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও, প্রতি মণ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে
হচ্ছে।
করগাও হাওর অঞ্চলের কৃষক ছালাম মিয়া বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু বাজারমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। ফলে বিনিয়োগের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

মাঠ পর্যায়ের কৃষকের দাবি, দ্রুত সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা না হলে এবং বাজারে দাম না বাড়লে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলের কিছু জমির ধান পানির নিচে রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে ২৭টি হারভেস্টার প্রস্তুত রয়েছে, পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও মেশিন আনা হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমি কাটার জন্য সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


